সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ০৩:০৪ পূর্বাহ্ন

শেকলে বাঁধা জীবন থেকে মুক্তি পেলেন বৃদ্ধা লতিফুন

জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না, লালমনিরহাট প্রতিনিধি॥

দীর্ঘ দুই বছর ধরে শেকলে বাঁধা জীবন থেকে মুক্তি পেলেন বৃদ্ধা লতিফুন বেগম। স্যোসাল মিডিয়ায় বৃদ্ধা লতিফুন বেগমের শেকলে বাঁধা ছবি ভাইরাল হলে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসন তাকে শেকল থেকে মুক্ত করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

শুক্রবার (১১ অক্টোবর) রাতে বৃদ্ধা লতিফুনকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এর আগে কয়েকদিন ধরে স্যোসাল মিডিয়া ফেসবুকে বৃদ্ধা লতিফুনের বন্দি জীবন নিয়ে তার ছবিসহ শেকলে বাঁধা বৃদ্ধা লতিফুন শিরোনামে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়ে আসছিল। সংবাদটি জেলা প্রশাসক মোঃ আবু জাফরের নজরে আসলে তিনি নিজে শিকলে বাঁধা লকিফুনকে উদ্ধার করে তাকে সুস্থ্য করে তোলার জন্য লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করান।

লতিফুন বেগম লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের উত্তর গোবধা গ্রামের শঠিবাড়ি বাজারের পুর্ব পাশ্বে নুরজাহানের স্বামী পরিত্যক্তা বোন।

স্থানীয়রা জানান, দুই/আড়াই বছর আগে স্বামীর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন হলে মানসিকভাবে বিকার গ্রস্থ হয়ে শঠিবাড়ি বাজারের পাশে বিধবা বোন নুরজাহানের ঘরে ঠাঁই নেন বৃদ্ধা লতিফুন। ঝিঁয়ের কাজ ও বিধবা ভাতার অর্থে সাধ্যমত বোনের চিকিৎসা করে সুস্থ করতে ব্যর্থ হন নুরজাহান। বৃদ্ধা লতিফুনের মানসিক অবস্থা আরো বিকারগ্রস্থ হলে গ্রামের সকলের ক্ষতি করতে শুরু করেন। এতে বাধ্য হয়ে দুই বছর ধরে বাড়ির পাশে রাস্তার ধারে একটি গাছের সাথে শেকলে বেঁধে রাখা হয় বৃদ্ধা লতিফুনকে। বিষয়টি নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরে স্যোসাল মিডিয়া ফেসবুকে বৃদ্ধা লতিফুনের জীবন বৃত্তান্তসহ শেকলে বাঁধা ছবি ভাইরাল হলে জেলা প্রশাসক আবু জাফরের নির্দেশে শুক্রবার রাতে আদিতমারী ইউএনও (ভারপ্রাপ্ত) জিআর সারওয়ার ও এনডিসি শহিদুল ইসলাম সোহাগ থানা পুলিশ নিয়ে ওই বাড়িতে যান। পরে বৃদ্ধা লতিফুনকে শেকল থেকে মুক্ত করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। তার দেখাশোনা করতে তার বোন নুরজাহানকেও সরকারী গাড়িতেই হাসপাতালে নেয়া হয়।

প্রতিবন্ধী বোনের চিকিৎসায় জেলা প্রশাসন এগিয়ে আসায় আনন্দিত বিধবা বোন নুরজাহান বলেন, স্বপ্নেও ভাবি নাই বাহে। ডিসি সাব গাড়ি পাঠে দিয়া মোর অসুস্থ বোনকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। আল্লায় ডিসি সাবের আর তোমার গুলার মঙ্গল করবেন।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (এনডিসি) শহিদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, ফেসবুকে শেকলে বাঁধা ছবি ও খবর দেখে জেলা প্রশাসক আবু জাফর মহোদয় ওই বৃদ্ধার বিষয়ে খোঁজ খবর ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী রাতে আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও ভারপ্রাপ্ত) জিআর সারওয়ার ও থানা পুলিশ নিয়ে বৃদ্ধা লতিফুনের পায়ে লাগানো শেকল খুলে দেয়া হয়। সেই সাথে তার চিকিৎসার জন্য তাকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসাকরা তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছেন। বৃদ্ধা লতিফুনকে সুস্থ্য করতে চিকিৎসকরা প্রয়োজন মনে করলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দেশের ভাল হাসপাতালে পাঠানো হবে। জেলা প্রশাসন তথা সরকার তার যাবতীয় খরচ বহন করবেন।

লতিফুনের পরিবারের দাবি পাবনা মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসা করা প্রসঙ্গে এনডিসি বলেন, সিভিল সার্জনসহ চিকিৎক বোর্ডের সিদ্ধান্ত মতেই তার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে। সেটা পাবনা মানসিক হাসপাতাল বা দেশের অন্য কোন উন্নত হাসপাতাল হোক।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com